মা চলে গেলেও মায়ের গন্ধ ঘর জুড়ে রয়েছে! মাকে স্বাতীলেখাকে হারিয়ে শূন্যতার মাঝে ‘খড়কুটো’-এর পুটু পিসি

স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত মারা গিয়েছেন গত ১৬ জুন, রেখে গিয়েছেন তার অজস্র কাজ,প্রিয়জনদের মাঝে ছড়িয়ে গিয়েছেন স্মৃতি। মায়ের মৃত্যুটা সবথেকে বেশি কষ্ট দিয়েছে অভিনেত্রীর সোহিনী সেনগুপ্তকে। খড়কুটো ধারাবাহিকের পুটু পিসির চরিত্রে অভিনয় করেন সোহিনী সেনগুপ্ত। গতকাল নিজের মাকে দাহ করে এসেছেন তিনি, প্রিন্সেপ ঘাটে অস্থি বিসর্জন দিয়েছেন। কিন্তু মায়ের স্মৃতি তার সমগ্র ঘরে তাকে যেন তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এক মুহূর্তের জন্য‌ও মাকে ভুলতে পারছেন না অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্ত।

কিন্তু যখন মা মারা গেলেন তখন স্বাতীলেখার মত‌ই শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী সোহিনী দেবী শুধু বললেন, মা বড্ড কষ্ট পাচ্ছিলেন। সমস্ত যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সত্যজিৎ রায়ের ঘরে বাইরে তে বিমলা চরিত্রে অভিনয় করে সকলের মন জিতে নিয়েছিলেন স্বাতীলেখা। বেলাশেষে সিনেমায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে তার অসাধারণ অভিনয় তাকে নতুন করে চিনেছিলো দর্শক।

অত্যন্ত প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন অথচ কখনোই কাউকে তিনি তার কষ্ট জানতে দেননি। মাঝখানে একবার হৃদরোগে ও আক্রান্ত হন। কিন্তু এত কষ্টের মধ্যে দিয়েও তিনি কাজ করে যেতে চেয়েছিলেন। মেয়ে সোহিনী কে বলেছিলেন তার কষ্টের কথা যেন কেউ জানতে না পারে। তাই তো প্রবল অসুস্থতা নিয়েও শিবপ্রসাদ নন্দিতার পরিচালিত বেলা শেষে সিনেমায় কাজ করেছিলেন। আর তার এই চরিত্র সংসারের সকল নারীদের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছিল।

এই মানুষটি জীবনের ছোট ছোট জিনিসের থেকে আনন্দ খুঁজে নিতেন। তাইতো নববর্ষ ও জন্মদিনে গ্রিটিংস কার্ড পেলে খুশি হতেন তিনি। আবার প্রবল ভাবে লড়াকু মানসিকতার পাশাপাশি তার মধ্যে একটি মাতৃমূর্তি বিরাজমান ছিল। তাইতো নিজে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও কৌশিক সেনের করোনা সংক্রমনের খবর পেয়ে নিয়মিত কৌশিক সেন ও তার পরিবারের লোকের খোঁজ নিতেন। এরকমই ছিলেন তিনি, অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সকলের মাঝখানে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি শিল্পীর মতো বাঁচতে চেয়েছিলেন আর দীর্ঘ জীবনের মধ্য দিয়ে নিজের অভিনয় প্রতিভা কে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন।

One thought on “মা চলে গেলেও মায়ের গন্ধ ঘর জুড়ে রয়েছে! মাকে স্বাতীলেখাকে হারিয়ে শূন্যতার মাঝে ‘খড়কুটো’-এর পুটু পিসি

error: Content is protected !!