“করোনা তবে কি শক্তি হারাচ্ছে?”, আশার আলো দেখালেন আমেরিকায় কর্মরত বাঙালি ডাক্তার

  • 256
    Shares

নিউইয়র্ক এর মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: ফেরদৌস খন্দকার কী বললেন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে?শুনলে চমকে যাবেন!সম্প্রতি তাঁর একটি লাইভ ভিডিওটিতে তিনি আলোচনা করেন “করোনা :তবে কি শক্তি হারাচ্ছে?”এই টপিক সম্পর্কে!

বিশ্ব ত্রাস সৃষ্টি করা এই করোনা ভাইরাস সম্পর্কে কিছু বলার আগে তিনি একটি উদাহরণ দিলেন আমাদের সামনে। তিনি বললেন “ধরুন ঢাকার একজন পুরুষ করোনা পজিটিভ হওয়ার পর দুদিনের মধ্যে সেরে উঠলো। আবার চট্টগ্রামের একজন পুরুষ সে করোনা পজিটিভ হওয়ার পর দুদিনের মধ্যেই মৃত্যুপথযাত্রী হয়ে গেল! এমনটা কেন হল? পার্থক্য কেন হলো?জানেন?”

উদাহরণটি তুলে ধরার পর তিনি নিজেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আমাদের বুঝিয়ে দেন। তিনি বললেন-“দুইজন পুরুষের প্রতিরোধক্ষমতা একরকম নয়। একজন পুরুষ প্রতিরোধ করতে পারল ,অপরজন পারল না। আরেকটি কারণ হল করোনাভাইরাস এলাকা অনুযায়ী নিজের চরিত্র বদলে ফেলতে পারে। ঢাকার করোনা ভাইরাসের স্ট্রেন হয়ত অতটা শক্তিশালী নয় যতটা শক্তিশালী চট্টগ্রামে। আসলে করোনাভাইরাস প্রতিটি এলাকায় যাওয়ার পর নিজের চরিত্রকে বদলে ফেলে। ঢাকার সাথে চট্টগ্রামের ভাইরাসের চরিত্র যেমন এক হবে না।তেমনি ঢাকার সাথে স্পেনের ভাইরাসের চরিত্র এক হবে না।”

কোভিড কেন এরকম আচরণ করে তাও তিনি ব্যাখ্যা করলেন?
“কোভিডের ভেতরে RNA ম্যাটেরিয়াল আছে।এটা টোটালি লোডেড উইথ RNA। ভাইরাসটি যখন মানুষের দেহের কোষের মধ্যে ঢোকে তখন মানুষের কোষের ভেতরকার যন্ত্রপাতি ভাইরাসের যন্ত্রপাতি তৈরি করতে থাকে।এটি একটি অবাক কান্ড।ভাইরাসটি প্রতিনিয়ত মিউটেশন ঘটায় নিজের।নিজের বদল ঘটায়‌। এই পার্থক্য সামান্যই হয়ে থাকে।যেমন ধরুন দুই ভাই -একজন শ্বেতাঙ্গ এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ। এই কারণেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস এর প্রকৃতি বিভিন্ন রকম ত
চাইনাতে একরকম স্পেনে একরকম USA তে একরকম। অর্থাৎ পরিবেশ কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলে এই ভাইরাসের ওপর।”

এতে কি বৈজ্ঞানিকদের প্রতিষেধক বানাতে কোন অসুবিধা হবে?
এর উত্তরে ডাক্তার ফেরদৌস বলেন-“ভাইরাসের মধ্যে ছোট ছোট যে প্রোটিন গুলো আছে তার চরিত্র বদলাচ্ছে। কিন্তু ভাইরাসের যে মেজর প্রোটিন সেটি সেম। এই কারণে বৈজ্ঞানিকদের প্রতিষেধক বানাতে কোন সমস্যা হবে না বরং সুবিধাই হবে।আর যারা প্রতিষেধক বানাচ্ছেন তারা একটিভ মেজর প্রোটিন কে টার্গেট করেই প্রতিষেধক তৈরি করছেন।”

করোনা ভাইরাসের শক্তি হারানো আসলে কী?
এই ভাইরাসের শক্তি হারানো আসলে বড় হারে এই ভাইরাসের মিউটেশন ঘটা। ডাক্তার ফেরদৌস বলেন- “ভাইরাসটি যত বড় বড় মিউটেশন হবে ততো সে তার ক্ষমতা হারাবে তাই সকল বৈজ্ঞানিকরা চাইছেন ভাইরাসটির যেন বড় বড় মিউটেশন হয়! এই কারণে বৈজ্ঞানিকরা প্রচুর মিউটেডেট স্ট্রেন খুঁজছে। একমাত্র আমেরিকা আলিজোনাতে একটি বড় মিউটেশন ঘটেছে! এছাড়া আর কোথাও মিউটিটেড স্ট্রেন পাওয়া যায়নি! তবু বিজ্ঞানীরা আশার আলো খুঁজছে। কিন্তু ঐ একটি জায়গা ছাড়া আর কোথাও এটি দেখা যায়নি!কিন্তু এই একটি অংশের মিউটেশন কে আশার আলো বলা যায় না। এটি একটি মহা সমুদ্রের মধ্যে এক গ্লাস পানি মাত্র!করোনার শক্তি এখন ও এক ই আছে আজ পর্যন্ত! বাংলাদেশে বেশি ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি এই ভাইরাস তার কারণ এটাই যে এখানে তরুণ মানুষের সংখ্যা বেশি এবং হতে পারে আবহাওয়া ও খানিকটা কাজে লেগেছে। কিন্তু ভাইরাস তার শক্তি হারায় নি।”

সবশেষে ডাক্তার একটি আশার আলো দেখান।তিনি বলেন যে সব দেশের প্রধানরা একত্রিত হয়ে চেষ্টা করছে করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে।তারা চেষ্টা করছেন যে কোনো মূল্যে সাধারন মানুষের কাছে প্রতিষেধক এনে দিতে। এটি হলো আশার আলো।