দেশজুড়ে তিন হোমিওপ্যাথি ওষুধের ক্রিনিকাল ট্রায়াল শুরু, সবুজ সংকেত দিলো কেন্দ্র! তবে কি হোমিওপ্যাথিই ভরসা ?

  • 3.6K
    Shares

সারা বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে তখন ভারত জানাচ্ছে এই ভাইরাস মোকাবিলার ওষুধ তাদের কাছে রয়েছে। তবে তা ভ্যাকসিন বা অ্যালোপ্যাথি ওষুধ নয়, হোমিওপ্যাথিতেই করোনা প্রতিরোধ করা যাবে বলে জানাচ্ছে তারা। আর্সেনিকাম অ্যালবাম, ফসফরাস, টিউবারকিউলিনাম। তিন হোমিওপ্যাথি ওষুধের ‘সিরিয়াল’ প্রয়োগ নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’। মঙ্গলবারই এই ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেয় ভারত সরকারের COVID সংক্রান্ত গবেষণা নির্ধারক সর্বোচ্চ টাস্ক ফোর্স এবং ‘সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন হোমিওপ্যাথি’।

দেশটির আয়ুর্বেদ মন্ত্রণালয়ের এক টুইটের বরাত দিয়ে জিনিউজ জানিয়েছে, হোমিওপ্যাথি চিকিত্সায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করা যায়। করোনা আক্রান্তের উপসর্গ সারানোর জন্য ইউনানি ওষুধ অত্যন্ত কার্যকর বলে জানানো হয়েছে। এর জন্য একটি নির্দেশিকাও জারি করা হয়। কী করা উচিত, কী করা উচিত নয় তার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। এমনকি কি ওষুধ খেতে হবে, তা-ও বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় আয়ুর্বেদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, আরসেনিকাম অ্যালবাম ৩০ এই ভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষম।
আয়ুর্বেদ মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশিকায় তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রে হোমিওপ্যাথি কতটা ‘বিজ্ঞানসম্মত’ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। কেউ কেউ পরামর্শ দেন ইউনানি মেডিসিন শিক্ষার্থীদের আগে মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়া উচিত। করোনার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ভাইরাস মোকাবিলায় আদৌ হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা প্রযোজ্য কিনা তা এখনও প্রমাণ হয়নি। গবেষণা না করেই সরকার থেকে এমন নির্দেশিকায় বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

বিসিজি ভ্যাকসিন তৈরি টিউবারকিউলোসিসের বীজাণু থেকে টিউবারকিউলিনাম ওষুধটিও তাই। তাছাড়া ঘন ঘন সর্দি-কাশির হাত থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম টিউবারকিউলিনাম ওষুধটি ফসফরাসের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে, আর্সেনিকাম, ফসফরাস, টিউবারকিউলিনাম (এপিটি) পরপর একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে প্রয়োগ করলে প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। চিকিৎসকদের দাবি, মিউটেশনের ফলে বারবার চরিত্র বদল করছে COVID-19। HIV’র মতোই একে নিয়েও বাঁচতে হবে। ফলে ‘লং টার্ম ইমিউনিটি’ খুব জরুরি। হোমিওপ্যাথিই হয়ে উঠতে পারে লড়াইয়ের পাসওয়ার্ড। COVID-এও সেই ফর্মুলা কতটা কাজ করবে, জানতে শুরু হচ্ছে ট্রায়াল। পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কেরল, গুজরাত, দিল্লির কনটেনমেন্ট জোনে থাকা বাসিন্দাদের উপর এই তিন ওষুধ প্রয়োগ হবে।

সম্প্রতি ইতালিতে ৩৮ জন COVID রোগীর অটোপসিতে দেখা যায়, করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর কারণ ‘ডিসিমিনেটেড ইন্ট্রাভাসকুলার কোয়াগুলেশন’। অর্থাৎ ধমনি-শিরা-উপশিরায় রক্ত জমাট বেঁধেই রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। ফলে অক্সিজেন বা ভেন্টিলেশন তেমন কাজে আসছে না। ফসফরাস এই রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারবে। কিন্তু টিউবারকিউলিনাম? মার্কিন গবেষকরা সম্প্রতি দাবি করেছেন, বিসিজি ভ্যাকসিন দেওয়া থাকলে COVID হলেও তা জটিল আকার নেয় না। কমে মৃত্যুর হারও।