কালী পুজো মানেই বুড়িমার বাজি, তিনি আসলে কে তা শুনলে চোখের জল আসবে

  • 433
    Shares

উৎসবের মরসুম চলছে আর সদ্য শেষ হয়েছে বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপূজা কিন্তু আসন্ন কালীপূজা।মাত্র কয়েকটা দিন এরপর এই কালী পুজো আসছে আর তাই এই কালী পুজো উপলক্ষে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে বাঙালি থেকে অবাঙালি সকলের মধ্যেই। আর এই কালী পুজো মানেই আট থেকে আশি সকল মানুষের এক কথায় পরিচয় বুড়িমার বাজি।আমাদের ছোটবেলা এই বুড়িমার চকলেট বোম দিয়েই কেটেছে যদিও এখনও বুড়িমার চাহিদা রয়েছে কিন্তু বাজারে অন্যান্য বাজিল কোম্পানি আশায় সেই বুড়িমা কিছুটা হলেও যেন চাপা পড়ে গিয়েছে।তবে বহু পুরনো এই বুড়িমার বাজি পিছনে রহস্য জানলে অবাক হবেন এবং কে এই বুড়িমা এই পরিচয়টা জানলে অবাক হয়ে যাবেন।

জানা গিয়েছে এই বুড়িমার আসল নাম অন্নপূর্ণা দাস যার জন্ম ফরিদপুরে কিন্তু যখন দেশভাগ হয় ঠিক তখনই তার জায়গা হয়েছিল সরকারি ক্যাম্পে। অর্থাৎ বুড়িমা আসলে সেই দেশভাগের সময় উদ্বাস্তু হয়ে আসা এক অন্নপূর্ণার কঠিন লড়াইয়ের ফলাফল এবং তার তিলে তিলে গড়ে তোলা ব্র্যান্ডের নাম।যা আসলে শুধুমাত্র একটা বাজি হিসেবেই পরিচিত 91 বাঙালি মেয়েদের কষ্ট করে এবং জীবনের সংগ্রাম করে উত্থান-পতনের লড়াই বটে।

1948 সালেম অন্নপূর্ণা তিন সন্তানকে কোলে নিয়ে পূর্ব পাকিস্তান থেকে এই শহরে চলে আসে তখন তার মাথার ওপরে ছিল না কোন সাধ ছিল না কোন আশ্রয় আর তাই সেই তিন সন্তানকে রক্ষা করতে এবং তাদের বড় করে তুলতে অন্নপূর্ণা পূজা হয়ে লড়াই করেছিলেন।

দারিদ্রতাকে সঙ্গে নিয়ে কখনো বাজারে ঝিঙে উচ্ছে পটল মুলো বিক্রি করেছেন আবার কখনো দিনমজুরি দেবিরি বাঁধাইয়ের কাজ করেছেন আর সেই উপার্জনের অর্থ দিয়ে তৈরি করেছিলেন বিড়ির কারখানা। কিন্তু তারপর থেকেই তার মনে আরো বড় ব্যবসা করার জেদ চেপে বসে সেভাবেই বুঝি বেশি নিয়ে আলতা সিঁদুর এর ব্যবসা শুরু করেন ততদিনে তিনি বেলুড়ের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে গিয়েছিলেন।

এরপর সেখানে এসে মেয়ের বিয়ে দেবার পরে একটি বাজির দোকান খুলে বসেন যেখানে বাজি কিনতে এসে সকলেই বলতেন চালু ল বুড়িমার বাজি। তখন তিনি ঠিক করেন বাইরে থেকে বাজিয়ে নিয়ে বিক্রি করার থেকে যদি নিজে উৎপাদন করা যায় তাহলে বোধহয় লাভ বেশি আর তাই ছেলেকে নিয়ে সরকারের নিয়ম মেনে বাজে ব্যবসার কাজে নেমে পড়লেন ফরিদপুরের অন্নপূর্ণা দাস। ছেলে ও সোরা গন্ধক মিশিয়ে চকলেট বোম বানানোর কৌশল শিখে নিলেন আর তারপরেই আস্তে আস্তে ব্র্যান্ডের নাম হয়ে উঠল বুড়িমা। যে বুড়িমার বাজি আজ বাঙালির উৎসব থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রেই বিশেষভাবে পরিচিত।

তবে এই জনপ্রিয় মহিলা আজ আর বেঁচে নেই কারণ 90 এর দশকে তার মৃত্যু হয় আর ঠিক তার কিছুদিন পর থেকেই এই বাজি ব্যবসায় ভাটা নেমে আসে কারণ তখন থেকেই সরকারি নিয়ম অনুসারে শব্দ বাজি নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়। যদিও এখনো অব্দি একইভাবে বুড়িমা কিন্তু বিশেষভাবে পরিচিত এবং বুড়িমার বাজি ও একই ভাবে পরিচিত।

One thought on “কালী পুজো মানেই বুড়িমার বাজি, তিনি আসলে কে তা শুনলে চোখের জল আসবে

error: Content is protected !!