করোনায় মালিকের মৃত্যু হয়েছে, ফেরার আশায় তিনমাস ধরে হাসপাতালে ঠায় বসে থাকল পোষ্য

  • 1.2K
    Shares

ভালোবাসার বন্ধন বোধহয় এতটাই দৃঢ় হয়। আমাদের মধ্যে একটা কথা প্রচলিত আছে মানুষ বেইমানি করলেও পোষ্যরা বা অবলা প্রাণীরা কখনই বেইমানি করে না। অনেকসময় তার প্রমান অনেক বার দেখেছি। যেহেতু এখন ভার্চুয়াল দুনিয়ার সময় তাই ভার্চুয়াল দুনিয়ার মাধ্যমে আমরা তেমন অনেক উদাহরণ দেখেছি। তাই তো সাতবছর ধরে যে মালিক পালন করলেন সেই মালিকের প্রয়ানের পরেও তাঁকে ভুলল না পোষ্য সারমেয়। উল্টে মনিবের আশায় দিন গুনে সতিন মাস ধরে হাসপাতালের মধ্যেই বসে থাকল সে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই এক ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়েছে যা সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে।

জিয়া বাও, চিনের হুবেই প্রদেশে মালিকের বাড়িতে সাতটা বছর কাটিয়েছে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তাঁর একমাত্র ঠিকানা হুবেই প্রদেশের তাইকাং হাসপাতাল। যেখানে মনিবের মৃত্যুর পর থেকে সেখানেই ঠায় বসে রয়েছে। যদিও প্রথম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছুই বুঝতে পারেনি। তাই সেখান থেকে তাঁকে অনেকবার সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে মোটেও যেতে চায়নি। তাইশেষে যখন তাঁর মনিবের জন্য ভালোবাসা ও কষ্ট সকলে বুঝতে পারল তখন তাঁকে হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফেই সেখানে থাকার ব্যবস্থা করেছে। এমনকি নিয়মিত খাবার দাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে জিয়া বাওয়ের মনিব করোনায় আক্রান্ত হয়ে হুবেই প্রদেশের তাইকাং হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার পাঁচদিনের মাথায় মনিবের মৃত্যু হয়। কিন্তু সেই জায়গায় থেকে নড়েনি কুকুরটি। ুল্টে মনিবা ফিরে আসবে এই ভেবে কার্যত সেখানেই এক চুল না নড়ে বসে রয়েছে সেখানে। জিয়া বাওয়ের ভালোবাসা এতটাই প্রখর যে মনিবের মৃত্যুর পরেও বিশ্বাস হারায়নি।

তার এই ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। সকলেই কুকুরটির প্রশংসা করেছেন। অনেকেই বলছেন অবলা প্রাণীদের মতো ভালোবাসা আজ পাওয়াই যায় না। যা একজন মানুষের থেকে অনেক বেশি। প্রসঙ্গত, চিনের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক।ওই হাসপাতালটির আশেপাশের দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে। সুপারমার্কেটও খুলেছে। সেখান থেকেই আপাতত নিয়মিত খাবার পাচ্ছে সে। যদিও এখন তাঁর স্থায়ী ঠিকানা পশু সংরক্ষণ কেন্দ্র।  

error: Content is protected !!