আইএএস হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিদিন ৪৮ কিলোমিটার সাইকেলে চেপে বাড়ি থেকে স্কুলে যেত, মাধ্যমিকে ৯৯ শতাংশ নম্বর পেল কন্যে

  • 2.5K
    Shares

কথাতেই আছে ইচ্ছা শক্তি ও জেদ এবং প্রতিভা থাকলে কি না হয়। নিজেদের মধ্যে যদি কিছু করার আগ্রহ থাকে তাহলে কি না করা যায়। আগ্রহের জন্যই আজ অন্ধত্বের প্রতিবন্ধকতার সত্ত্বেও গানের তালে সুর তুলেছিল এক মেয়ে। এক পা নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়েছিল। যদিও ইচ্ছেশক্তি থাকে তাহলে কোনো বাধা আর বাধা নয়। বাধা হতে পারে না। তাই তো মাত্র পনের বছর বয়সেই প্রতিদিন ৪৮ কিমি করে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে গিয়েও ৯৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে পাশ করেছে এক কন্যে।

প্রতি পদে পদে প্রতিবন্ধকতা ছিল। মধ্যপ্রদেশের রোশনি ভাদোরিয়ার। কিন্তু সেসব প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে রেখে প্রতিদিন রোজকার মতো স্কুলে গিয়ে পড়াশুনা করেছে। একেবারেই প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়ি, নেই সেভাবে স্বচ্ছলতা। সংসারে আর্থিক কষ্ট থাকেলও সেসবকে মনের মধ্যে না পোষন করে রেখে রোজ পড়াশুনা করে যেত সে। আর এভাবেই সাইকেল চালিয়ে স্কুলে গিয়ে ও নিতান্ত কষ্টের মধ্যেই পড়াশুনা করে দশমের বোর্ড পরীক্ষায় তার প্রাপ্তি ৯৮.৭৫ শতাংশ। শুধু তাই নয়, রাজ্যের মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান অর্জন করেছে সে।

তবে এখানেই যে শেষ নয়, কারণ এরপর আবার উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। তাই সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে রেখে এগোতে চায় ছোট্ট রোশনি। পাশে পেয়েছে পরিবারের সদস্যদের। যারা তাঁক প্রতি মুহুর্তে সমস্তি দিক থেকে সাপোর্ট করে গেছে। তবে এবার পড়াশুনার চাপ আরও বাড়ছে তাই সাইকেল চালিয়ে আর সেভাবে পড়াশুনা করা যাবে কি? এই প্রশ্ন পরিবারের সকল সদস্যদের মাথায় ঘোরাফেরা করছে। তাই তো এবার যানবাহন চালু করার কথা ভাবছে পরিবারের সদস্যরা।  

মেহগাওর একটি সরকারি স্কুলের পড়ুায় ছিল রোশনি। যেখানে তাঁর গ্রাম থেকে কোনো বাসই যায় না। কিন্তু ভালো স্কুল তচাই স্কুল ছাড়ার কথা ভাবতে পারেনি সে। বরং স্কুলে যাওয়ার বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে। সাইকেলে করে ২ বছর ২৪ কিমি যেতে হত এবং ২ কিমি আসতে হত। তবে স্কুল কামাই নে। বছরে ৭০ দিন স্কুলে যেত সে। তাই তো তাঁর এই সাফল্যের জেরে খুশি তার বাবা।পেশায় একজন কৃষক কিন্তু মেয়ের লেখাপড়ায় ঢিলেমি দেননি। তবে বাবা মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে সে আইএএস হতে চায় বলে জানান রোশনি।

error: Content is protected !!