নিজের জামাই এর বিরুদ্ধেই কেস করেছিলেন রানী রাসমণি, যার ফলে মন্দির তৈরি পিছিয়ে গিয়েছিল! জানুন অজানা এক ইতিহাস

কলকাতার ধনাঢ্য জমিদার প্রীতিরাম মাড়ের ছোট ছেলে বাবু রাজচন্দ্র দাসের সাথে বিয়ে হয় রাসমণি দাসির।১৮০৪ এর বৈশাখ মাসে সেই বিয়ের সময় রাজচন্দ্রের বয়স ২১ বছর আর রাসমনির বয়স ছিলো ১১ বছর‌। বিয়ের কিছু সময় পরেই রাজচন্দ্র স্ত্রীর নাম বদলে দেন রানী রাসমণি, আর পরবর্তীকালে নানান লোকহিতকর কাজকর্ম করে সেই নামেই তিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন, জমিদার গিন্নি থেকে তিনি সত্যিকারে রানী মা হয়ে উঠেছিলেন, প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দক্ষিণেশ্বরের কালীমন্দির।

ছোট বয়স থেকে নিত্যপুজা রান্না-বান্না ঘরকন্নার সমস্ত কিছু বিষয়েই রাণী রাসমণি ছিলেন পারদর্শী, পরবর্তীকালে স্বামীর উৎসাহে তিনি মামলা মোকদ্দমা বিষয়সম্পত্তি সংরক্ষণের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে থাকেন। স্বামীর মৃত্যুর পর জমিদারির যাবতীয় দায়িত্ব তার কাঁধে ছিলো, তার বিচক্ষনতা ও সুশাসনের ফলেই জমিদারের সম্পত্তির উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে।

দক্ষিণেশ্বর মন্দির প্রতিষ্ঠা নিয়ে একাধিক গল্প প্রচলিত আছে। শোনা যায় নৌকাযোগে কাশীতে তীর্থ করতে যাওয়ার সময় স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন রানী রাসমণি। এই স্বপ্নাদেশ পেয়েই দেবীর আদেশে কলকাতা থেকে চার মাইল দূরে গঙ্গার পূর্ব তীরে দক্ষিণেশ্বর মন্দির তৈরি করেন তিনি আর এই মন্দির‌ই হয়ে উঠেছিল রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের লীলাভূমি, এই মন্দিরের নহবতেই বাস করতেন সারদা দেবী,যে কারণে আজ‌ তা তীর্থ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

কিন্তু এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে সেই সময় রানী রাসমণিকে কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি। নীচু জাতি হওয়ার কারণে তৎকালীন সময়ে উচ্চজাতিদের কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন তিনি, এমনকি কয়েকজন জমিদার গন্ডগোল তৈরি করার চেষ্টাও করেছিলেন।রানিকে আটকাতে এক ধনী ব্যক্তি ১৬ বার কেস করেছিলেন যদিও এইসব কিছু করেই আটকানো যায় নি রানী রাসমণিকে‌। মন্দির প্রতিষ্ঠা কে কেন্দ্র করে সেইসময় একাধিক মামলা হয়েছিলো শুধু বাইরের লোক না নিজের লোকের বিরুদ্ধেও মামলা করেছিলেন রানী রাসমণি।

টাকা-পয়সার হিসেবে গড়মিল হওয়ার কারণে বড় জামাই রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের মামলা করেন তিনি, এমনকি ছোটজামাই মথুরামোহনের বিরুদ্ধেও বিষয় সংক্রান্ত মামলা করেছিলেন। তবে এই সমস্ত মামলা তিনি বেশিদিন ধরে টানেনি অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই সেই সকল মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন আর এই সমস্ত কারণেই মন্দিরের কাজ ব্যাহত হয়েছিল যার ফলে ১৮৪৭ সালে মন্দিরের কাজ শুরু হলেও সম্পূর্ণ মন্দির নির্মাণ করতে আট বছর সময় লেগে গিয়েছিলো, খরচ পড়ে ছিল তখনকার দিনের হিসেবে প্রায় ৯ লাখ টাকা।

জীবনের শেষদিকে রানী রাসমণি দেবী দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে যেতেননা, মন্দিরের যাবতীয় দায়িত্ব বিশ্বস্ত ছোটজামাই মথুরের ওপর ছেড়ে আদি গঙ্গার পাড়ে এক বাড়িতে তিনি থাকতেন। ১৮৬১ সালের ১৯ শে ফেব্রুয়ারি এই বাড়িতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। তার দীর্ঘ জীবনে নানান রকম লোকহিতকর কাজকর্ম করেছিলেন তিনি, এর পাশাপাশি তাকে নিয়ে নানান রকম অলৌকিক ও আধ্যাত্মিক কাহিনীর কথা শোনা যায় যে কারণে সকলেই তাকে বলতেন যে তিনি অষ্টসখীর একসখী।

One thought on “নিজের জামাই এর বিরুদ্ধেই কেস করেছিলেন রানী রাসমণি, যার ফলে মন্দির তৈরি পিছিয়ে গিয়েছিল! জানুন অজানা এক ইতিহাস

Leave a Reply